Posts

Showing posts from April, 2018

সংকলন ১০- এক হতভাগা বিজ্ঞানীর ডায়েরি।

আমার নাম আশফাক চৌধুরী। পেশায় বিজ্ঞানী। বাংলাদেশে আমার মত বিজ্ঞানী আর একটিও জন্মায়নি। আমি ২০৫৩ ও ২০৬৬ সালে দুইবার নোবেলপুরুস্কার পাই। আমার সবচেয়ে বড় আবিষ্কারটি হচ্ছে মৃত্যুর পরও মানুষের মস্তিষ্ক সচল রাখা। তবে এর একটি সীমাবদ্ধতা আছে। আমি মানুষের শুধু মস্তিষ্কটাকেই সচল করে রাখতে পেরেছিলাম। কিন্তু মানব দেহের অন্যান্য অঙ্গ-প্রতঙ্গ নয়। আমি সর্বপ্রথম এটি একজন সাধারন নভোচারীর উপর প্রয়োগ করেছিলাম। সেই নভোচারী একটি দূর্ঘটনায় মারা গিয়েছিল। আমি তার মৃত্যুর পরও তার মস্তিষ্কটি সচল রেখেছিলাম। সারাবিশ্বে আমাকে নিয়ে মাতামাতি শুরু হয়েছিল তখন। কিন্তু এই সুখ বেশিদিন আমার কপালে জোটেনি। ২০৭৩ সালের ১০ ই এপ্রিল অর্থাৎ আমার জন্মদিনেই আমার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটেছিল। সেদিন ছিল শুক্রবার। সাধারণত এই দিনটির বেশিরভাগ সময় আমি আমার স্ত্রীর সাথে কাটাতাম। কিন্তু সেদিন হঠাৎই আমার মাথায় কিছু ফর্মূলা আসে।যেগুলোতে সফল হলে মানুষকে অমর বানানো সম্ভব। তাই ল্যাবরেটরিতে যাওয়ার জন্যে আমি ছটফট করছিলাম। আমার স্ত্রী লাবণ্য আমাকে বলল, -আজকে আমি নিজ হাতে কেক বানিয়ে তোমাকে খাওয়াব। আমি একটু অবাক হলাম। জিজ্ঞেস করলাম, -কেক কেন? -বারে আজকে...

সংকলন ৯- এ এবং বি ক্যাটেগরির মানুষ।

আজকে থার্টি ফার্স্ট নাইট। সেই প্রাচীন যুগ থেকে রীতি চলে আসছে নতুন বছরকে আনন্দের সাথে বরণ করে নেয়ার। রাত বারটা বাজার সাথে সাথে একে অপরকে চিৎকার করে বলে, “Happy New Year”, “Happy New Year”। রূপকের এসব রীতিতে একটুও আগ্রহ নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট করতে সে একদম পছন্দ করে না। সেই ছোটবেলা থেকেই একনাগাড়ে কাজ করে এসেছে সে। এটি তার দোষ না গুণ তা নিরূপন করা একটু কঠিন বৈকি। রূপকের আস্তানার কাছেই একটা বিল্ডিং তৈরি হচ্ছে। এটা নাকি কয়েক মিলিয়ন তলার বিল্ডিং হবে। সে ওখানেই শ্রমিকের কাজ করে। তার কাজ খুব সাধারন হলেও বেশ শ্রম দিতে হয় তাকে।মাঝে মাঝে ক্লান্ত হয়ে পড়ে সে। একবার মারাত্তক আহতও হয়েছিল সে। TBC-342 যে কিনা তার যাবতীয় ঘরের কাজ করে দেয়া রোবট, সে না থাকলে হয়ত রূপক সেবার বাঁচত না। TBC-342 খুব নিম্নমানের রোবট। আজকাল আর কেউ তেমন এ ধরনের রোবট ইউজ করে না।রূপকের দামী রোবট কেনার সামর্থ নেই বলে ও বাজার থেকে TBC-342 কেই কিনে এনেছে। ওর এতে বেশ কাজ চলে যায়। পৃথিবীর এই অংশে আসতে পারবে রূপক সেটা কখনো কল্পনায় করেনি। পৃথিবী মানুষ আজ নিজেদেরকে দুই ক্যাটেগরিতে ভাগ করে ফেলেছে। এ এবং বি। এ গ্রুপের মানুষেরা বুদ্ধিবান। ত...

সংকলন ৮- নিসানের প্রথম প্রোফেশনাল পরীক্ষা।

ঘুটঘুটে অন্ধকার রুমটা। শেষের মাথার দিকে ছোট্ট একটা যন্ত্র থেকে নিয়নের মিহি আলোর একটা রেখা বের হচ্ছে। সেটার আলোতেই নীলাভ আভার একটা গা ছমছম করা অশরীরীয় পরিবেশ তৈরি হয়েছে ওদিকটায়। আকারে অতিমাত্রায় ছোট আর ওজনে অনেক হালকা হলেও Profexa-440 নামের এই পিচ্চি যন্ত্রটাই“Medic-333” জাতির ভাগ্য নির্ধারক। গত ২০ বছর ধরে এই গ্যালাক্সির নামকরা যত চিকিৎসক সবাইকেই উত্তীর্ণ হয়ে যেতে হয়েছে এই Profexa-440-র কাছে। অতি উচ্চমাত্রার গতিসম্পন্ন core i-100 ক্যাটাগরির একটা রোবট Profexa-440, আর হার্ডড্রাইভ ৯৫০০ টেরাবাইট। এর চেয়ে বেশি মাত্রার ক্যাপাসিটি সম্পন্ন রোবট আর শুধু একটাই আছে… Tech-X-001 (এইটা প্রকৌশল ডিপার্টমেন্টের রোবট), যেটা Medic-333 জাতির আওতাধীন নয়।এই জাতির প্রতিটা মানুষের কাছে Profexa-440-র কদরটাও তাই যুক্তিযুক্ত। আর কয়েকজনের পর-ই নিসান-এর ডাক আসবে ভেতর থেকে। আজ এনাটমি প্রথম পত্র পরীক্ষা। নিসান সিনিয়রদের কাছে অনেক শুনেছে এই পরীক্ষার কথা। অনেক কঠিন নাকি 1st Prof-এর এই পরীক্ষাটা। অনেক অনেক বছর আগে (যখন Profexa-440-র আবিষ্কার হয়নি) এই পরীক্ষাটাই নাকি দিতে হত Buul-X নামের একটা রোবটের কাছে। কী যেন যান্ত্...

সংকলন ৭- জন্মকথা

।।১।। বাইরে কি বৃষ্টি হচ্ছে? এই মধ্যরাতে এক পশলা বৃষ্টি হলে মন্দ হয় না। ভাবে শাওন। অনেক্ষন ধরেই সিডি প্লেয়ারে গান শুনছে সে। ঘরে টেবিল ল্যাম্প জ্বলছে ঠিক তার বিছানার কাছে। এই আলোতে বিছানায় শুয়ে থাকতে বেশ মজা লাগে শাওনের। আলো আঁধারিতে মন কেমন যেন খেলা খেলে যায়। কিছু না ভেবেই অনেকক্ষন কাটিয়ে দেওয়া যায়। মোবাইল বাজছে কি? শাওন সিডি প্লেয়ারটা বন্ধ করে মোবাইল হাতে নেয়। কে কল করেছে না দেখেই মোবাইলটা সুইচ অফ করে দেয়। তারপর আবার সিডি প্লেয়ারটা ছেড়ে দেয়। যেন পুরো পৃথিবীর উপরই তার অনেক অভিমান। জানালার পাশে এসে দাড়ায় সে। সারি সারি ছয়তলা, দশতলা বিল্ডিং। চারিদিকে কৃত্রিম আলোর ছড়াছড়ি। শহরের এ দিকটা অনেক পরিষ্কার পরিছন্ন। শাওন জানালার পাশ থেকে সরে আসে।সিডি প্লেয়ারটা বন্ধ করে টেবিল ল্যাম্পটা বন্ধ করে দেয়। তারপর নরম বিছানায় এলিয়ে দেয় নিজেকে। ফজরের দিকে ঘুম ভেঙ্গে যায় শাওনের। তীব্র ব্যাথায় কাতরাতে থাকে সে। ডাইনিং টেবিলের দিকে ছুটে যেতে চাইল সে। কিন্তু কোথায় রুমের দরজা।কিছুতেই সে দরজা খুজে পাচ্ছে না। চারিদিকে দেয়াল। তার মনে হচ্ছে ঘরের ভিতর অসংখ্য ঝিঁ ঝিঁ পোকা ডাকছে একসাথে। পাগলের মত চারিদিকে হাতরাতে থা...

সংকলন ৬- সমীকরণ।

এক. প্রফেসর রফিকুজ্জামান অংকে পিএইচডি করে ডক্টর হয়েছেন। তিনি প্রতিটা কাজের ফলাফল অংক কষে বের করে ফেলেন। সে এক এলাহী কাণ্ড! যে কাউকে দেখে তিনি অংক কষে বলতে পারেন এ ব্যক্তি আজ দিনে কী কী কাজ করেছে, দিনের বাকী সময় কী করবে, কী করা উচিত সঅব! তিনি ঘোর নাস্তিক। ইদানিং তিনি স্রষ্টা যে নেই তা অংক কষে বের করার চেষ্টা করছেন। তার ধারনা খুব শিঘ্রই সফল হবেন তিনি। ইতোমধ্যে তিনি তার স্বপে একটা সমীকরণ দাঁড় করিয়ে ফেলেছেন। সমীকরনের ফলাফল ‘শূন্য’ হলে বুঝতে হবে স্রষ্টা আছে। আর যদি ‘এক’ হয় তাহলে স্রষ্টা নেই। তিনি রাত-দিন সমীকরণ নিয়ে পড়ে থাকেন। এবং মনে প্রাণে চাচ্ছেন সমীকরণের ফলাফল হোক ‘এক’। কিন্তু চাইলেই তো হবে না। সমীকরণ মিলতে হবে। সঠিক সমাধান হতে হবে। আর তাহলেই কেল্লাফতে! তিনি যুগান্তকারী আবিষ্কারক হয়ে যাবেন। ড. রফিকুজ্জামান তার ল্যাবরেটরীতে বসে তার ‘স্রষ্টা সন্ধান’ সমীকরণ নিয়ে কাজ করছেন। হঠাৎ কাজ থামিয়ে গলা ছেড়ে ডাকলেন- টুণ্ডুপ! অ্যাই টুণ্ডুপ!! ডাক শুনে হাজির হলো প্রফেসর সাহেবের চাকর। ‘তুমি এতোক্ষণ দাঁড়িয়েছিলে, না বসেছিলে?’ ‘জ্বি, দাঁড়াই ছিলাম।’ ‘এখানে যেভাবে দাঁড়িয়ে আছো সেভাবে, না অন্যভাবে?’ টুণ্ডুপ কি...

সংকলন ৫- প্রজেক্ট এলিয়ান (পাই সিগন্যাল)

১. আমি নীলাকে ভালবাসি, খুব বেশি ভালবাসি। কিন্তু এই কথাগুলো আজ আমাকে খুব বেশি খোচা দেয়। যখন হলোগ্রাফিক স্কিনে পৃথিবীব ছবি ভেসে উঠে,তখন নীলার সৃত্মি আমাকে কাতর করে তুলে। মনে হয় মহাকাশে ঝাপিয়ে পড়ি, ছুটে যায় নীলার কাছে। কিন্তু জানি এটা আর সম্ভব নয়। তবু আমি ঠিকমত ঘুমাতে পারি না, কোন কাজ করতে পারি না। শুধু চোখের সামনে ভাসতে থাকে ছলছল নীল চোখ। মনে হচ্ছিল এই বুঝি সে কেদে ফেলবে, কিন্তু তার চোখ থেকে একটা ফোটাও জল গড়িয়ে পড়ে নি। যে চোখ দেখে আমি বুঝে নতাম তার মনের ভাষা, সেই চোখ খুব অপরিচিত লাগছিল। সেই দিন ঐ দুর্বোধ্য চোখে আমি ি খুজছিলাম জানি না। সেই চোখে কি অভিমান লুকানো ছিল? কিছুটা ক্ষোভ? আমি যে কিছুই খুজে পাচ্ছিলাম না! আমি উৎভ্রান্তের মত বলি, “নীলা মাত্র ক’দিন, তারপরই তো চলে আসব। ঠিকমত হাইপার জাম্প দিতে পারলে বড় জোর এক বছর।” নীলা মুখ তুলে তাকায়, তার চোখটা ঢেউহীন সাগরের মত শান্ত,স্বচ্ছ। সেই চোখে আমি শূণ্যতা ছাড়া কিছুই খুজে পাইনি। মহাকাশ যানের সিড়িতে পা দিয়ে আমি ঘুরে তাকালাম। দূরে নীলাকে দেখা যাচ্ছিল আগের মতই দাড়িয়ে আছে। দু’পাসে লিওন-লিয়া, শক্ত করে ধরে আছে ওদের হাত। আমার ভিজুয়াল ক্যামেরার জুম বাড়...

সংকলন ৪- প্রতিশোধ।

“ অন্ধ ভূমিগর্ভ হতে শুনেছিলে সূর্যের আহবান , প্রানের প্রথম জাগরনে তুমি বৃক্ষ আদিপ্রান । ”                                             -  কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর । {১} তার চোখ নেই কিন্তু সে দেখছে। দেখছে, অনুভব করছে সবকিছু। সে দেখছে দিনদিন তার বংশধররা, তার প্রজাতি বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। আগে এই বিলুপ্তির ধারা ছিল ধীরে ধীরে কিন্তু এখন দিন দিন সেটা দ্রত হতে দ্রুততর হচ্ছে,। আনুপাতিক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে সমস্যাটা। কিন্তু সে কিছুই করতে পারছে না। শুধু চাপা কষ্টআর দুঃখ বয়ে বেড়াচ্ছে। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয় এই প্রাণীগুলো কত নিষ্ঠুর, কত অকৃতজ্ঞ। তারা নিজের আশ্রয় দাতাকে ভূলে যাচ্ছে, ভূলে যাচ্ছেপালনকর্তা,অন্নদাতাকে। সে স্মৃতি হাতড়ে চলে গেল সেই টারসিয়ারী যুগে, জুরাসিক যুগে। মহাকালের ভাজে ভাজে খুজে দেখল। হ্যা, এইতো ধারাবাহিক ভাবে সব মনে পড়েছে। এই সুন্দও গ্রহ, বিশ্বভ্রক্ষান্ডের একমাত্র প্রাণ সমৃদ্ধ গ্রহ, এটা তো একদা আমাদেরই রাজত্বে ছিল। শু...

সংকলন ৩- জিনিয়া

পূর্বকথাঃ ত্রিশ শতাব্দীর দিকে পৃথিবীর অবস্থা খারাপ হতে থাকে। পৃথিবীর বায়ুমন্ডল এতটাই দূষিত হয়ে পড়েছিল যে দিন দিন মানুষের বাসের অযোগ্য হতে থাকে পৃথিবী। সে সময়ে মানুষ ধারনা করেছিল মানুষ হয়ত মঙ্গল গ্রহতে বসতি স্থাপন করতে যাচ্ছে। কিন্তু তা আদৌ সম্ভব হয়নি।ঠিক এ সময়েই গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারটা করে বসেন জীববিজ্ঞানী রোলেক্স রাইটন।তিনি প্রমাণ করেন যে মানুষের ফুসফুসে একটি অপারেশন করলেই মানুষের নিঃশ্বাস জাতীয় জটিলতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে। এমনকি যে স্থানে অক্সিজেন নেই সেখানেও মানুষ বেঁচে থাকতে পারবে। মানুষেরা যেন হাফ ছেড়ে বাঁচল। তারপর সৌরজগতের বিভিন্ন গ্রহে মানুষ ছড়িয়ে পড়ে এবং তার কিছুদিন পরে বিচিত্র কোন এক কারনে পৃথিবী ধ্বংস হয়ে পড়ে। ৪০০৯ সাল। ক্যাপ্টেন কিরানা লুক চিন্তিত মুখে স্ক্রিনের সামনের দিকে তাকিয়ে আছেন। উনার অনুভূতি সবসময়ই প্রবল। তার মনে হচ্ছে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। তিনি আঁচ করতে পারছেন। ঘুম থেকে উঠেই তিনি স্পেসশীপের সবকিছু পরীক্ষা করলেন। কিন্তু কোথাও কোন গন্ডগোল পেলেন না। তিনি যখন উদ্দিগ্ন হয়ে বসে আছেন তখনই কিছু ছোট শিশু সেখানে ঢুকে পড়ে। হৈ হল্লা করে বেড়াতে থাকে চারদিকে যদিও তাদের এ...

সংকলন ২- নারী শুণ্য পৃথিবী।

নারী, এই নারী। ওঠো তো। এত ঘুমালে চলবে। দ্রুত উঠে পড়। তোমার পরিচয় দাও। কে তুমি? ছেলেটির ক্রমাগত চেষ্টা আর ডাকার ফলে এক সময় আড়মোড়া ভেঙ্গে মেয়েটি জেগে ওঠে। কিন্তু পরক্ষনেই নিজের নগ্ন দেহের সামনে একজন তরুনকে দাড়িয়ে থাকতে দেখে লজ্জায় লাল হয়ে যায়। দু’হাত দিয়ে নিজের লজ্জাস্থান লুকাবার ব্যর্থ চেষ্টা করে। কিন্তু ছেলেটি নির্লিপ্ত, সে মেয়েটির বাহু ধরে তাকে সোজা হয়ে দাড়াতে সাহায্য করে। ছেলেটি বুঝতে পারে না মেয়েটির মনের ভাষা। সে অনুভব করতে পারে না যে মেয়েটি লজ্জা পাচ্ছে। সহস্র বছর পর ঘুম ভেঙ্গে জেগে ওঠা মেয়েটি সোজা হয়ে দাড়াতে পারছে না। অনেক দিন বিশ্রামে থাকা তার পা’দুটি শরীরের ভর সঠিক ভাবে নিতে পারছে না। অলস চোখে মেয়েটি একবার ছেলেটির চোখে তাকায় পরক্ষনেই আবার নিজের নগ্ন দেহ দেখার চেষ্টা করে। ছেলেটি মেয়েটির মনের ভাষা বুঝতে পারে না কিন্তু মেয়েটি ঠিকই ছেলেটির মনের ভাষা বুঝতে পারে। মেয়েটি বুঝতে পারে ছেলেটির সরল দৃষ্টি যে দৃষ্টিতে নেই কোন কামনা –বাসনা। নেই কোন লোভ বরঞ্চ আছে দু’চোখ ভরা বিস্ময়! আমি এখন কোথায়? প্রশ্ন করে মেয়েটি। তুমি এখন সৌরজগতের দ্বিতীয় গ্রহ মঙ্গলের মিসোন সিটিতে। মিসোন! অবাক হয় মেয়েটি...

সংকলন ১- প্রতিবন্ধি শান

ড:রুজানের মনটা আজ অনেক ফুরফুরে। তার এতো দিনের গবেষনা আজ সফল হতে চলেছে। গবেষনাটা একবার সফল হলে সেটা যে কেমন ব্যাপক সাড়া ফেলবে চোখ বন্ধ করে সেটা একবার ভাবতেই তার মুখে হাসি ফুটে উঠলো। রুজান একজন বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক। এতদিন তিনি অনেক কিছুই আবিষ্কার করেছেন,কিন্তু এবারেরটা সম্পূরনই অন্যরকম। তার গবেষনা রোবব নিয়ে। রোবট+মানব এর সমন্বয়ে রোবব। রোবট নিয়ে এতদিন অনেক গবেষনা হয়েছে,চেহারা দেখে এখন আর রোবট ও মানুষকে আলাদা করা যায়না।  কিন্তু রুজানের গবেষনা একটু আলাদা। রোবট এর মাঝে মানবীয় গুন গুলো প্রতিস্থাপন করা যায় নাকি,তারই পরীক্ষা চালাচ্ছেন তিনি,যা আজকেই শেষ হবার কথা। রুজানের মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে,আগের ফুরফুরে ভাবটা আর নেই। এতদিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তিনি দেখছেন রোবটের মাঝে মানবীয় গুন দিতে চাইলে,জীবন্ত মানুষের মস্তিষ্কের অংশ লাগবে। আর তা হলে যে মানুষটির মস্তিষ্ক নেয়া হবে সে হবে জীবিত থেকেউ মৃত। পুরো মস্তিষ্ক না থাকলে সে বেঁচে তো থাকবে,কিন্ত সে হবে বাচ্চার থেকেউ অসহায়।।।।।  ড:রুজান আর ভাবতে পারছেননা,ঘেমে তার পুরো শরীর ভিজে গেছে।এমন সময় ঘরে ঢুকলো তার দশ বছরের প্রতিবন্ধী ছেলে শান। বিজ্ঞানে...